Bangladesh Economic Outlook 2025: Growth, Challenges, and Future Projections / বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫ পর্যালোচনা: অস্থিরতার মধ্য দিয়ে স্থিতিশীলতার পথে
Graph: Comparison of Bangladesh's GDP growth rate (2021–2026). Source: World Bank & ADB Analysis.
লেখক: BD English Times ডেস্ক
বিভাগ: অর্থনীতি / বিশেষ প্রতিবেদন
২০২৫ সাল ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষার বছর—যেখানে একদিকে ছিল সহনশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কার, অন্যদিকে ছিল নানা চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে গিয়ে অর্থনীতিতে দেখা গেছে মন্থর প্রবৃদ্ধি, তবে একই সঙ্গে ছিল পুনরুদ্ধারের আশাও। নিচে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক চিত্র ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হলো।
প্রবৃদ্ধির গতি কমল কেন: ২০২৫ সালের মন্থরতা
গত এক দশকের উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা থেকে সরে এসে ২০২৫ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে স্পষ্ট শ্লথগতি দেখা যায়। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ৪.০% থেকে ৫.০% নির্ধারণ করে। যেখানে আগের বছরগুলোতে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬–৭ শতাংশ।
এই নিম্নগতির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ ছিল:
🔹 রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অস্থিরতার প্রভাব ২০২৫ সাল জুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
🔹 স্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি
মূল্যস্ফীতি ৯–১০ শতাংশের আশেপাশে অবস্থান করায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়, ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদাও হ্রাস পায়।
🔹 বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা
নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও ব্যাংক খাত সংস্কার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা “দেখি–অপেক্ষা করি” নীতিতে থাকেন।
🔹 প্রাকৃতিক দুর্যোগ
দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় কৃষিখাতে বড় ক্ষতি হয়, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ইতিবাচক দিক: সহনশীলতা ও সংস্কারের অগ্রগতি
সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অর্থনীতি পুরোপুরি থেমে যায়নি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে:
✅ রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স
২০২৫ সালে প্রবাসী কর্মীরাই ছিলেন অর্থনীতির নীরব নায়ক। রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
✅ ব্যাংকিং খাতে সংস্কার
অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর পদক্ষেপে খেলাপি ঋণ (NPL) নিয়ন্ত্রণ ও দুর্বল ব্যাংকগুলোর সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়। এর সুফল পেতে সময় লাগলেও শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে।
✅ রপ্তানি খাতের ঘুরে দাঁড়ানো
প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ২০২৫ সালের শেষদিকে তৈরি পোশাক (RMG) খাত ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে পায়। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা পুনরুদ্ধার হতে শুরু করে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি: ২০২৬ সালে কী আশা করা যায়?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সবচেয়ে খারাপ সময় কি পেছনে পড়েছে? অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৬ সাল হবে “স্থিতিশীলতার বছর”, বড় ধরনের উত্থানের বছর নয়।
📈 সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে ২০২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৫.০%–৫.৫% পর্যন্ত উঠতে পারে।
📉 মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।
🌍 সংস্কারের সুফল
২০২৫ সালে শুরু হওয়া ব্যাংকিং, কর ও শাসনব্যবস্থার সংস্কারগুলো ২০২৬ সালে ইতিবাচক ফল দিতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) বাড়াতে সহায়ক হবে।
উপসংহার
২০২৫ সাল নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ছিল সংকট, সংশোধন ও টিকে থাকার বছর। যদিও প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল, তবে আর্থিক ব্যবস্থার ভিত্তি মজবুত করার যে কাজ শুরু হয়েছে, সেটিই ভবিষ্যতের টেকসই পুনরুদ্ধারের ভিত্তি হতে পারে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক আশাবাদই এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত মনোভাব।

Comments
Post a Comment