যে পরীক্ষাগুলো নিয়োগকর্তাদের অবাক করে দিয়েছে**
দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্রে একটি বিশ্বাসই চালু ছিল—
যত বেশি সময় কাজ, তত বেশি উৎপাদন।
এই ধারণা থেকেই ৮–১০ ঘণ্টার অফিস, সপ্তাহে ৫–৬ দিন কাজ, কম ছুটি—সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বাস্তব পরীক্ষা এই ধারণাকে পুরোপুরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
অবাক করা বিষয় হলো—
👉 কম সময় কাজ করেও মানুষ আরও বেশি উৎপাদনশীল হতে পারে।
পুরনো ধারণা: বেশি সময় = বেশি কাজ?
বেশিরভাগ অফিস এখনো মনে করে, কর্মীরা যত বেশি সময় অফিসে থাকবে, কাজ তত ভালো হবে।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন:
-
দীর্ঘ সময় কাজ করলে মানসিক ক্লান্তি বাড়ে
-
মনোযোগ কমে যায়
-
সৃজনশীলতা নষ্ট হয়
-
ভুলের পরিমাণ বেড়ে যায়
এই বাস্তবতা দেখে গবেষকরা প্রশ্ন তুললেন—
সমস্যা কি আসলে কাজের সময়ই?
যেসব পরীক্ষা দুনিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে
🇮🇸 আইসল্যান্ডের ছোট কাজের সময়ের পরীক্ষা
২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আইসল্যান্ডে হাজার হাজার কর্মীর ওপর একটি বড় পরীক্ষা চালানো হয়।
-
সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বদলে কাজ → ৩৫–৩৬ ঘণ্টা
-
বেতন একটুও কমানো হয়নি
ফলাফল সবাইকে অবাক করেছে:
-
উৎপাদনশীলতা কমেনি, অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে
-
মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে
-
কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য উন্নত হয়েছে
আজ আইসল্যান্ডের প্রায় ৯০% কর্মী কম কাজের সুবিধা পাচ্ছেন।
🇯🇵 জাপানে ৪ দিনের কর্মসপ্তাহ
কাজের অতিরিক্ত চাপের জন্য পরিচিত জাপানে, Microsoft Japan একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়।
তারা কর্মীদের ৪ দিন অফিস করার সুযোগ দেয়।
ফলাফল:
-
উৎপাদনশীলতা প্রায় ৪০% পর্যন্ত বেড়েছে
-
কম অসুস্থতা ছুটি
-
কম মিটিং, বেশি ফোকাস
🇬🇧 যুক্তরাজ্যের ৪ দিনের কাজের বড় পরীক্ষা
২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে ৬০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ৪ দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে পরীক্ষা চালায়।
৬ মাস পর দেখা যায়:
-
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতি স্থায়ী করে
-
কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়
-
অনেক প্রতিষ্ঠানের আয় অপরিবর্তিত বা বেড়েছে
কেন কম কাজ করলে ফল ভালো হয়?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারণগুলো বেশ পরিষ্কার:
✔ মনোযোগ বাড়ে
সময় কম থাকলে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ কাজেই ফোকাস করে।
✔ ক্লান্তি কমে
বিশ্রামপ্রাপ্ত মস্তিষ্ক বেশি কার্যকরভাবে কাজ করে।
✔ কাজের আগ্রহ বাড়ে
ব্যক্তিগত সময় বেশি থাকলে কর্মীরা কাজে বেশি মনোযোগী হয়।
✔ অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ পড়ে
অযথা মিটিং ও সময় নষ্ট কমে যায়।
সব ক্ষেত্রে কি এটা কাজ করবে?
সব সেক্টরে একভাবে এই পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়।
-
হাসপাতাল ও জরুরি সেবায় বিশেষ পরিকল্পনা দরকার
-
খারাপ ম্যানেজমেন্ট হলে ফল নাও আসতে পারে
তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন—
👉 আইডিয়ার চেয়ে বাস্তবায়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতের কাজের দুনিয়া কেমন হতে পারে?
বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন বদলে যাচ্ছে।
আগে প্রশ্ন ছিল—
“কত ঘণ্টা কাজ করেছ?”
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—
“কী ফলাফল এনেছ?”
মানসিক স্বাস্থ্য, কর্মীদের সন্তুষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতা—সবকিছু মিলিয়ে কম কাজের ধারণা ভবিষ্যতে আরও জনপ্রিয় হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শেষ কথা
কম কাজ মানেই কম ফল—এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হচ্ছে।
👉 উৎপাদনশীলতা সময়ের উপর নয়, শক্তি, মনোযোগ ও ভারসাম্যের উপর নির্ভর করে।
কখনো কখনো কম সময় কাজ করাই
আরও ভালো কাজ করার চাবিকাঠি হতে পারে।

Comments
Post a Comment