কাম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এই বাস্তুচ্যুত মানুষের তালিকায় রয়েছেন ২৭ বছর বয়সী সুয়াং স্রেয়াং—যিনি এখন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
গোলাগুলির শব্দ আর আতঙ্কের মধ্যে নিজের বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে তাকে। সীমান্ত এলাকায় থাই ও কাম্বোডিয়ান সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। নিরাপত্তার অভাবে অনেক পরিবার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অস্থায়ী আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
আশ্রয়, কিন্তু নিরাপত্তাহীন
সুয়াং স্রেয়াং বর্তমানে একটি অস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি শিবিরে অবস্থান করছেন। এই শিবিরে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা, নেই প্রসূতি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। ফলে সন্তান জন্ম দেওয়া নিয়ে তার ভয় ও দুশ্চিন্তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
“আমি জানি না, এখানে সন্তান জন্ম দেওয়া নিরাপদ হবে কিনা,”—বলেছেন তিনি।
“কিন্তু আর কোথাও যাওয়ারও সুযোগ নেই।”
মানবিক সংকট বাড়ছে
সীমান্ত অঞ্চলে এই সংঘর্ষ শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক ইস্যু নয়—এটি একটি বড় মানবিক সংকটও। নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অস্থায়ী শিবিরগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও খাবারের সংকট দেখা দিচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, সংঘর্ষ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও নবজাতকদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
সুয়াং স্রেয়াংয়ের মতো অসংখ্য মানুষের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—এই সংঘাত কবে শেষ হবে, আর তারা কবে ঘরে ফিরতে পারবেন? যুদ্ধ ও সংঘর্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দূরে কোথাও, কিন্তু তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে।
একজন মা হিসেবে তার একটাই চাওয়া—নিরাপদ পরিবেশে সন্তানের জন্ম দেওয়া। কিন্তু সীমান্ত সংঘাত সেই মৌলিক অধিকারকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
শেষ কথা
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়—যুদ্ধের আসল শিকার সৈন্যরা নয়, সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত পদক্ষেপ এবং মানবিক সহায়তা ছাড়া এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
Comments
Post a Comment